বই পড়া ও আমরা

ন্যাচার ভার্সেস নার্চার নামে একটা পুরোনো বিরোধ (কন্ট্রোভার্সি ) আছে যার দুইটা অংশ আর  প্রত্যেকটা অংশই  সুন্দর সুন্দর যুক্তি বহন করে। একজন মানুষের বেড়ে উটা ন্যাচার বা বংশগতির  উপর নির্ভর করে নাকি নার্চার বা কিভাবে বেড়ে তুলা হয় সেটার উপর নির্ভর করে -এ  নিয়ে বিতর্ক । একজন মানুষের অনেক কিছুই তার ডিএনএ এ বহন করে এই যেমন বাবা-মা সুন্দর হলে তাদের ছেলেমেয়েরা সুন্দর হবে ,এরা জ্ঞানী হলে তাদের ছেলেমেয়েরা ও জ্ঞানের একটা ভাগ পায় বা জ্ঞানের একটা প্রভাব পড়ে। এই বিরোধের আমি কোন অংশের ? আমি নার্চার বা বেড়ে উটার ধরণ ও পরিবেশের পক্ষে। যাইহোক আরো ডিটেল এ যাই। আমি বাংলাদেশ-আমেরিকার পার্থক্যগুলো নিয়ে আলোচনা বা সমালোচনা করতে খুবই বিরক্ত অনুভব করি। প্রত্যেকটা সন্তানের কাছে তার মা যেমন অদ্বিতীয় ঠিক তেমনি যে দেশের আলো বাতাসে যে বেড়ে উঠেছে সে দেশ তার কাছে অতুলনীয় এবং অদ্বিতীয়। তবুও কিছু কিছু ব্যাপার আছে যা আমার তুলনা করতে দোষের কিছু বলে মনে হয় না। এই যেমন বই পড়া। এখানে রেলওয়ে স্টেশন বা বাস স্টেশনে গেলেই একটা জিনিস এত সুন্দর লাগে যা আপনাকে ওই সুন্দরের দিকে টানতে থাকে। আর সেটা হলো  বই পড়া মানুষ ও মানুষের আশপাশ। আমিও একদিন মনে করলাম ট্রাই করে দেখি কেমন লাগে। বই পড়তে তো ভালোই  লাগে কিন্তু সবচেয়ে মজার বিষয় আবিষ্কার করলাম যা সেটা হচ্ছে  সময়টা কেটে যায় দ্রুত। এক ঘন্টা ট্রেনে বসে কলেজ যেতে কি বিরক্তই না হতাম আমি। সিলেট থেকে ঢাকা যেতে প্রায় ৬-৮ ঘন্টা লাগে।এই সময়ে ভালো একটা বই শেষ করা যাবে। সিলেট-চিটাগং কত দূর সেটা যারা যান তারাই বের করে নিবেন।  আপনি ও ট্রাই করতে পারেন। আমাদের দেশে লোকজন হাসবে কিন্তু অন্যের হাসির জন্য নিজের ভালোমন্দ তো আর বিসর্জন দেয়া যায় না। বিলগেটস ছোটবেলা লুকিয়ে লুকিয়ে বই পড়তেন কারণ ঐসময় বই পড়া মেয়েদের কাজ ছিল। উনি মেয়েদের কাজ করতেছেন সেটা গোপন রাখতেন কিন্তু পড়া বন্ধ করেন নি। যাইহোক এত কিছু বলার মাধ্যমে আমাদের উপর যে নার্চারের প্রভাব কতটুকু সেটা কতখানি তুলে ধরতে পারছি জানি না কিন্তু এরকম কিছু একটা বলার চেষ্টা করছি। একটা ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তুলুন দেখবেন  জীবন ও জগৎ সুন্দর হয়ে যাবে। শরীরের খাবার দেশ ও জাতিতে জাতিতে ভিন্ন কিন্ত আত্মার খাবার অভিন্ন।আর সেটা বই।বইয়ের পোকা হয়ে যাও।

Advertisements