বড় বড় কথায় কেউ বড় হয় না,কাজ দিয়ে এগিয়ে যেতে হয়। এই সুন্দর জীবনে সমস্যা আছে ,আছে তার সাথে সমাধান ও। বিপদে শক্ত থাকতে কবি সাহস দিয়েছেন।যারা চিন্তা করতে পারে তারা থেমে থাকে না ,তারা পথ ঠিকই বের করে নেয়। বীরু ও নির্জীব মানুষকে কেও চায় না আর চাইবেই বা কেন। এখানে বীরু বলতে কবি আত্মবিশ্বাসহীনতাকে বুঝিয়েছেন। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে কাজ করতে হবে। এখানে কাজ বলতে কবি শুধু কাজকে বুঝান নি। এখানে কাজ মানে স্বপ্ন,ইচ্ছে আর গন্তব্য কেও বুঝিয়েছেন। সমগ্র কবিতায় কবি যে জিনিসটা খুব সূক্ষভাবে জুড়িয়ে দিয়েছেন তা হচ্ছে আমাদের মানুষ হওয়া।

আদর্শ ছেলে
– কুসুমকুমারী দাশ

আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে ?
মুখে হাসি, বুকে বল তেজে ভরা মন
“মানুষ হইতে হবে” — এই তার পণ,
বিপদ আসিলে কাছে হও আগুয়ান,
নাই কি শরীরে তব রক্ত মাংস প্রাণ ?
হাত, পা সবারই আছে মিছে কেন ভয়,
চেতনা রয়েছে যার সে কি পড়ে রয় ?
সে ছেলে কে চায় বল কথায়-কথায়,
আসে যার চোখে জল মাথা ঘুরে যায় |
সাদা প্রাণে হাসি মুখে কর এই পণ —
“মানুষ হইতে হবে মানুষ যখন” |
কৃষকের শিশু কিংবা রাজার কুমার
সবারি রয়েছে কাজ এ বিশ্ব মাঝার,
হাতে প্রাণে খাট সবে শক্তি কর দান
তোমরা মানুষ হলে দেশের কল্যাণ |

এই কবিতার আট লাইন ১০ মার্কসের জন্য বরাদ্ধ ছিল। শিক্ষকরা (সবাই না ) ও পার পেয়ে যেতেন কোনোভাবে মুখস্থ করাতে পারলে। এই কবিতাগুলোর মধ্যে যে মানুষ হওয়ার ব্যাকুল আবেদন তা আমরা নিতে চাইনি বলে আমরা অনেকেই আজ ও পুরোপুরি মানুষ হতে পারলাম না।

“মানুষ হওয়া ” আবার কি ? আমরা তো মানুষ আছিই অনেকেই এটা ভাবি। মানুষ হওয়া নিয়ে কেন এত এত লিখলেন কবি-লেখকরা বা লিখতেছেনই বা কেন ?

Advertisements