আলোকিত মানুষ।। তারা কেমন ।। তাদের কয়েকজন

মানব সভ্যতায় আলোকিতরা এসেছেন। সক্রেটিস প্রশ্নের দ্বারা মানুষ কে উত্তর দেয়ার চেষ্টা করেছে। তিনি পথে প্রান্তরে যুবকদের পথের সন্ধান দিতেন। এই রকম আলোকিত মানুষের সংস্পর্শে এসে অনেকেই আলোকিত হয়েছেন। প্লটো সক্রেটিসের সেরা ছাত্র ও জগৎ বিখ্যাত।

হজরত মুহাম্মদ (স.ম) ছিলেন আলোক বর্তিকা। আরবের যে অন্ধকার ছিল তা তিনিই দূর করেছেন। মানুষের মর্যাদা আরবদের কাছে ছিল না। এই মহান মানুষ শুধু মাত্র যে অন্ধকার দূর করেছেন তা না ,তিনি এক সাথে একটা আলোর মিছিল মানব সভ্যতায় ছেড়ে গেলেন। অক্ষরজ্ঞানহীন এই বিস্ময়,এই আলোর শিক্ষক ইসলাম ধর্মের প্রচারক। এই আলোর যে মিছিল তিনি শুরু করেছিলেন এই মিছিলের সৃষ্টি উমর,আবু বকর,আলী ,উসমান। আজও এই মিছিলের সৃষ্টি অনেক মহাপুরুষরা আমাদেরকে আলোর পথ দেখান তবে কিছু সংখক আমরা এই মিছিলকে প্রায় নষ্ট করে দিয়েছি।

গৌতম বুদ্ধ যখন মানবতার কথা বললেন তখন উনারই ধর্মের লোকেরা উনাকে নাস্তিক বলে উঠলো তাই বলে কি তিনি আলোর পথ ছেড়ে দিয়েছিলেন ?  আসলে মানুষ মনে করে মানবতা আর ধর্ম দুই জিনিস কিন্ত তা না। হজরত মুহাম্মদ (স.ম ) সারা জীবন মানুষের জন্য কাজ করে গেলেন। প্রকৃতপক্ষে মানবতা কী ? মানবতা হচ্ছে মানুষের কোনো ক্ষতি না করে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের জন্য কাজ করা। এর বেশি কিছু না কিন্ত।

লালন সাই মানবতার অগ্রদূত। মুসলিম বা হিন্দু দুইটার কোনোটাই তিনি ছিলেন না কিন্ত কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে কথা বলেন নি। কোনো ধর্মকে অবজ্ঞা করেন নি। কোনো ধর্মকে অসম্মান করেননি।  খুব সম্ভব আলোকিতরা অসস্মান করতে জানেন না ,ছোট করতে জানেন না ,অবজ্ঞা ও করতে পারেন না।

আমাদের জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন ধর্মভীরু কিন্ত ধর্মান্ধ ছিলেন না। মসজিদের পাশে কবর দেয়ার আকুতি উনাকে বিশাল করে তুলেছিল মুসলিম সমাজে। কিন্ত যখনই সাম্যের গান গাইলেন তখনই ঝামেলা ঘটলো। আলোকিতরা মানুষকে সমান চোখে দেখেন। এরা নিজের ধর্ম মানেন ঠিকই কিন্ত অন্যের ধর্মকে আক্রমণ করে নয়।

কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ এত এত লিখে গেলেন তবুও আক্রমণ করলেন না। নিজের ধর্ম কিন্ত ঠিকই মেনে নিলেন এবং বিভিন্ন নাটক-গল্পে-উপন্যাসে হিন্দুয়ানি নাম ব্যবহার উনার হিন্দু ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধারই বহিঃপ্রকাশ।

আব্দুল্লাহ আবু সায়েদ স্যারকে অনেক অনেক ধন্যবাদ যে তিনিই আমাদের তরুণ প্রাণে আলোকিত মানুষ হওয়ার যে ব্রত নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন তা এখন সফল। আমরা এই আলোকিত মানুষদের নিয়ে পড়াশুনা করলে আমাদের একটা শান্তির জায়গা তৈরী হবে। আমরা আমাদের ভেতরের সত্তাকে খুঁজে পাবো।

নোট : এখানে মাত্র কয়েকজন,যুগে যুগে অনেক আলোকিতরা এসেছেন।

Advertisements