কিভাবে মোটিভেটেড থাকা যায় : 

গত রাতে একজন মেসেজ করলেন যে উনি নাকি আমার ফেইসবুক পোস্ট দেখে এবং ভিডিও গুলোও নাকি মিস করেন  না একটাও। 

তিনি যখন মোটিভেশনাল কিছু পড়েন বা দেখেন তখন মোটিভেটেড হন তবে সময় গড়ানোর সাথে সাথে সব মোটিভেশন চলে যায় এবং খানিকটা হতাশা ঘিরে ফেলে। এমতাবস্থায় তিনি কী করবেন ? 

এই সমস্যাটা উনার একার নয়। আমাদের অনেকেরই একই অবস্থা। 

চলুন মোটিভেশন ধরে রাখার ধাপগুলো একটু দেখে নেই। 

১।  গন্তব নির্ধারণ : আপনি যখন গন্তব নির্ধারণ করবেন বা গোল সেট করবেন তখন দেখবেন আপনার গোল আপনাকে তাড়া করছে। আপনি যদি খুব শক্তভাবে গোল নির্ধারণ করতে পারেন তবে দেখবেন আপনি এত খুশি থাকবেন (খুশি থাকা মানে মোটিভেটেড থাকা  ) যে রাতের ঘুম লেট মর্নিং পর্যন্ত গড়াচ্ছে না।ফালতু সময় নষ্ট হচ্ছে না। প্রানবন্ত আর জীবনীশক্তি আপনাকে ঘিরে ফেলবে। সুতরাং,গন্তব বা গোল নির্ধারণ হচ্ছে মোটিভেটেড থাকার প্রথম উপায়। 

২। ফলাফল কল্পনা করা : আপনি যখন গোল নির্ধারণ করবেন তখন তো আপনা আপনি একটা ফলাফল চোখের সামনে চলে আসে। এই গোলটা সম্পন্ন করার পর ফলাফলটা এমন হবে,আমার অনভুতি এইরকম হবে ,আমার অবস্থান ওই জায়গায় যাবে …… এরকম অনেক কল্পনা চলে আসার কথা,না আসলে কল্পনায় এইগুলো আনতে হবে তাহলে মোটিভেটেড থাকা যায়। 

উদাহরণ :  আপনি গন্তব নির্ধারণ করলেন যে আপনি একজন পেইন্টার হবেন। গন্তব বা গোল নির্ধারণের পরে কল্পনা করতে লাগলেন যে আপনার ছবিগুলো বাংলাদেশ ছুঁয়ে যাচ্ছে। দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশে সুনাম কুড়াচ্ছে। আপনার একেকটা ছবি লক্ষ্ লক্ষ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আপনার নাম স্বনামধন্য জয়নুল আবেদীনের পাশে স্থান পাচ্ছে। ভাবতেই গায়ের লোম খাড়া হয়ে যাচ্ছে না ? অনুভূতি ঘিরে ফেলছে না ? এইরকম আপনি যে পথে যেতে চান সে পথের একটা নির্দিষ্ট গন্তব নির্ধারণ করেন আর কল্পনা করতে থাকেন। দেখবেন কল্পনা বা স্বপ্নরা বাস্তবে ডানা মেলছে। 

৩।  গন্তব্যে পৌঁছার জন্য ছোট ছোট ধাপ করে নেয়া : গোল বা স্বপ্ন অবশ্যই বড় করে দেখা উচিত। “মানুষ তার স্বপ্নের সমান “- আব্দুল্লাহ আবু সায়েদ স্যার।যত বড় গোল আপনার তত বড় মানুষ আপনি। বড় গোলকে ছোট ছোট করে নিলে গোলে পৌঁছা খুব সহজ হয়ে যায়। যখন একটা ছেলে/মেয়ে ক্লাসের ফার্স্ট-বয় অথবা ফার্স্ট-গার্ল হয় তখন সে কিন্ত এক লাফে ফার্স্ট হয়ে যায় নি। সে আগে প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় ভালো করে,পরে অর্ধবার্ষিকে আবার ভালো রেজাল্ট করে। সবশেষে বার্ষিক পরীক্ষায় সবচেয়ে ভালো করে ফার্স্ট হয়। গোল কিন্ত ছিল ক্লাসের ফার্স্ট হওয়া। সেই গোলকে সিস্টেম নিজেই ভাগ করে দিয়েছে ছাত্রছাত্রীর জন্য। এইভাবে বড় বড় গোলকে ধাপ করে নিলে মানসিক প্রশান্তি কাজ করে আর মোটিভেটেড থাকা যায় কারণ এই ছোট ছোট ধাপগুলোও আপনার গোল বা গোলের একেকটা অংশ। 

৪।  ইতিবাচক মানুষের সাথে থাকা : ইতিবাচকতাই সুখ। আমার এই নেই,সেই নেই ,এইটা হলো না ,সেটা হলো না ,না এমন হওয়ার কথা নয় …….এই টাইপের মানুষের কাছ থেকে যত পারা যায় দূরে থাকতে হবে। এরা নিজেও জীবন নিয়ে খুশি না,আপনাকেও খুশি থাকতে দিবে না। ইতিবাচক মানুষের কাছে থাকুন,দেখবেন  হতাশা ঘিরে ফেলবে না। ভালো থাকবেন। জীবনে আনন্দে থাকাই সফলতা। আনন্দে থাকাই মোটিভেশন। 

৫।  স্পর্শের বাইরের জিনিস নিয়ে চিন্তা না করা : আমরা অনেক সময় আমাদের নাগালের বাইরের জিনিস নিয়ে ভয়ে থাকি। যদি ব্যাবসায় লস করি,যদি আমার গার্লফ্রেন্ড/বউ আমার সাথে চিট করে,যদি আমার খারাপ কিছু হয়ে যায়……..এই রকম অনেক ভয় চলে আসতে পারে যে গুলো আমাদের হাতের নাগালে নয় অথচ এইগুলো পরিবর্তনের জন্য বা এইগুলো এড়িয়ে চলার জন্য আমরা প্রানপন চেষ্টা করি। কিছু জিনিস আমরা চাইলেও হাতের স্পর্শে আনতে পারবো না। সুতরাং স্পর্শের বাইরের জিনিস নিয়ে চিন্তা করা যাবে না। 

Advertisements