ব্যক্তিত্ব গঠন : 

 
 
 

ওই লোকটার তো ব্যক্তিত্ব নাই। এরকম কথা আমরা অনেকেই বলে থাকি। বলি না ? ব্যক্তিত্ব; সততা,দয়ালু,মহানুভবতার মত আলাদা কোন গুণ নয়। ব্যক্তির আচরণই ব্যক্তিত্ব। তবে হ্যা , ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব যদি অসুন্দর থাকে তবে এটাকে সুন্দর করা বা আরো উন্নত করার দরকার আছে। 

আমরা মাঝে মধ্যে কিছু মানুষকে দেখে থমকে যাই ,যাই না ? হ্যা যাই। আসলে তাদের ব্যক্তিত্বের সৌন্দর্যে আমরা আটকে যাই। মানুষের চলাফেরা,কথাবার্তা ,অঙ্গভঙ্গি ও চিন্তাধারায় তার ব্যক্তিত্ব ফুটে উঠে।প্রশ্ন হচ্ছে ভালো-মন্দের ,কথা হচ্ছে কে কিভাবে তার ব্যক্তিত্বকে নিয়ন্ত্রণ করে। যেহেতু ব্যক্তির আচরণই তার ব্যক্তিত্ব সেহেতু আমরা চাইলেই আমাদের ব্যাক্তিতকে পরিবর্তণ ও পরিবর্ধন করতে পারি। এখানে সতর্কতা আছে। ভুলেও নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিত্বকে অনুকরণ করতে যাবেন না। এমনটা করলে ক্ষতি হবে।তবে অনুসরণ করা যাবে। অনুসরণ মানে হচ্ছে কোনো কিছু খেয়াল করে দেখে নিজের সাথে মিলিয়ে নিয়ে কাজ করা। নিচের ধাপগুলি তোমরা মেনে চললে ব্যক্তিত্বের উন্নতি সাধন হবে। ব্যক্তিত্বের উন্নতি করতে হবে এই জন্য যে যেমন একজন মানুষ উচ্চশিক্ষিত,টাকাওয়ালা বা অনেক সুদর্শন অতচ সুন্দর ব্যক্তিত্ব নেই তার মানে ওই মানুষের কিছুই নেই। তাই আমাদের যা যা আছে সব কিছুকে একটা কাঠামো দান করতে হলে উন্নত ব্যক্তিত্বের অধিকারী হতে হবে।আচরণের উন্নতির জন্য অনেক কিছুই করা যায় তবে আমি নিচের পয়েন্ট গুলোকে বেশি গুরুত্ব দেব। 

অবস্থান বুঝে কথা বলা : আমরা অনেকেই সময় ও অবস্থান বুঝে কথা বলতে পারিনা। আসলে পারিনা বললে ভূল হবে। বুঝি না বললে ব্যাপারটা বোধগম্য হয় একটু বেশি। হ্যা ,আমরা ঠিক বুঝি না কোন অবস্থান কী বলা। আবার এও বুঝি না কার সাথে কী বলা। যদি উদাহরণ দিয়ে বলি তবে ঠিক এইভাবে বলতে হয় যে পরিবারের মানুষের সাথে একরকম আচরণ ,বন্ধদের সাথে একরকম আচরণ,পাড়াপ্রতিবেশীদের সাথে একরকম আচরণ,ছোট বয়সের মানুষের সাথে একরকমের ,বড় বয়সের মানুষের সাথে একরকমের আচরণ,বেশি পরিচিতদের সাথে একরকমের ,কম পরিচিতদের সাথে একরকম আচরণ আর মাঝারি পরিচিতদের সাথে একরকমের আচরণ।

যত পারা যায় সৎ থাকা : মানুষ অনেক সময় ইচ্ছায় অনিচ্ছায় রসিকতা করে। আর রসিকতায় মানুষ মিথ্যে বলে। অবশ্যই রসিকতা ভালো জিনিস তবে খুব পরিচিতজনদের সাথে ছাড়া অন্যদের সাথে রসিকতা খারাপ জিনিস ভয়ে আনে কারণ পরিচিতজনরা আপনাকে ইতিমধ্যে চিনে নিয়েছে।  এ গেলো শুধুমাত্র রসিকতার ছলে মিথ্যা কথা না বলার কথা। আমরা অনেকেই এমনিতে মিথ্যা কথা বলতে পছন্দ করি। কারণ মিথ্যায় মজা আছে। খুব বিপদে না পড়লে মিথ্যা কথা বলা ঠিক না। যতক্ষণ মিথ্যা পরিহার না পারা যায় ততক্ষন ব্যক্তিত্বে কোনো সৌন্দর্য আসবে না।

কথা ও কাজের মিল : কথার সাথে কাজের মিল রেখে চলা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় আসলেই ভূল হয়ে যায় বা কথার সাথে মিল রাখা যায় না যা মেনে নেয়া যায়। মানুষ নিখুঁত হতে পারে না। তবে মানুষ চাইলে মোটামুটি ভালো হয়ে চলতে পারে। চেষ্টা করতে হবে এই যা।

সুন্দর বাচনভঙ্গি : আমরা অনেকেই কথা বলতে লজ্জা লজ্জা ভাব নিয়ে কথা বলি। ব্যাপারটা এমন দাঁড়ায় যেন আমরা কোনো অপরাধ করে বিচারকের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। অনেকেই বলতে পারেন যে এটা সম্মানবোধ থেকে করা হয় ,আমি মনে করি এটা যাকে সম্মান দেয়া হচ্ছে উনাকে রাজা বানিয়ে তুমি প্রজা হয়ে যাচ্চো। এখন তুমিই বলো কেউ প্রজা হয়ে কিভাবে নিজেকে মেলে ধরবে। নিজেকে ফুটিয়ে তুলতে মুক্ত হওয়া লাগবেই ,মাথা দাঁড় করিয়ে ,চোখে চোখ রেখে কথা বলতে হবেই। তবে  হ্যা নিজেকে ফুটিয়ে তুলতে আমরা অনেকেই উদ্ধত হয়ে যাই যা নিশ্চই হানিকর। সব কিছুরই একটা সর্বনিন্ম ও সর্বোচ্চ বিন্দু আছে – যা তোমাদেরকে মনে রাখতে হবে।

সম্মান দেয়া : আমরা অনেকেই সম্মান দেয়াকে দূর্বলতা ভেবে নেই। এখানে অনেকেই বলতে আমরা যারা সম্মান দেই এবং সম্মান পাই উভয়কে বুঝানো হয়েছে। ছোট-বড়,ধনী-গরীব,শিক্ষিত-অশিক্ষিত ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সম্মান দিতে হবে। সম্মান দিলে তা নিজের কাছে সরাসরি ফিরে আসে। তুমি কাউকে সম্মান করছো অথচ সে তোমাকে সম্মান দেয় নাই এরকম কখনো হয়েছে ?  সম্মান যে দিতে জানে তার সম্মানের অভাব হয়না। এই পৃথিবীর প্রায় সব জিনিস উভয়মুখী। এক মুখী প্রক্রিয়া বেশিদিন টিকে না।

 
 

ব্যক্তিত্ববানরা কী পায় ? 

সম্মান পাওয়া : অবশ্যই একজন ব্যক্তিত্ববান মানুষ সম্মানের অধিকারী। আমরা তাদেরকে সম্মান করি।ব্যক্তিত্ববান ততক্ষন হওয়া যায়না যতক্ষণ কেউ একজন সৎ,আদর্শবান,পরোপকারী,নিরহংকারী,উঁচু মনের অধিকারী না হচ্ছেন। আর যিনি এই গুণগুলির অধিকারী তিনি অবশ্যই সম্মান পাওয়ার অধিকারী। 

 

সফল হওয়া : সফল হওয়া অনেক কঠিন যদি না আমরা নিয়ম মাফিক চলাফেরা না করি। আর এই জায়গায় ব্যক্তিত্ববানরা একটু এগিয়ে থাকে কারণ তারা অনেক নিয়ম কানুন মেনে চলেন। 

 

বাঁধা অতিক্রম : ব্যক্তিত্ববানরা জগতের সকল ভয়,হীনমন্যতা,অসুখী প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারে।সব সময় যে থাকে তা কিন্ত নয়। তবে কিভাবে সব বাধা পেরিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া যায় তা তারা জানে। যে মানুষটা নিজের চলাফেরায় এত সংযম রেখে চলে তার জন্য ছোট ছোট ঝামেলা বিশাল কিচ্ছু ? তোমরাই বলো। মোটেও না। 

 

প্রভাব ফেলা যায় : ব্যক্তিত্ববান মানুষ গরীব-ধনী জাত-কুল নির্বিশেষে মানুষের শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে যায়। কারণ এরা আমাদের উপর বিশেষ ধরণের প্রভাব ফেলতে পারেন। তাদের চলাফেরা,কথাবার্তা বা অঙ্গভঙ্গি আমাদের অনেক ভালো লাগে আর এই জন্য তারা এই প্রভাবটা ফেলতে পারেন।

 

এখন কথা বলা যাক যে ব্যক্তিত্বহীনতায় কী হয় :

ব্যক্তিত্ববান হলে যা যা পেতে তা পাওয়া হবে না এই যা। এখন সিদ্ধান্ত তোমার ! 

Advertisements